একান্তই ইন্দ্রিয় সর্বস্ব প্রাণী হিসেবে মানব শিশুর জন্ম। ইন্দ্রিয় দ্বারা তাড়িত হলেও ধীরে ধীরে সে নানা ভাবে নানা প্রক্রিয়ায় একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া একটি জীবনব্যাপী এবং বহুমুখী প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন মানুষ পুরোপুরি সামাজিক মানুষ হিসেবে পরিনত হয়। এই প্রসঙ্গে সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিস এর সংজ্ঞাটি যথার্থ – ব্যক্তি পুরোপুরি সামাজিক মানুষে পরিনত হয়। এ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব লাভে ব্যর্থ হয় এবং সমাজে সে এক জন যোগ্য ও উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।” সামাজিকীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা মানব শিশু ক্রমশ ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়।
যে সকল মাধ্যমে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সাধিত হয় তার মধ্যে সর্বপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম পরিবার। নিচে পরিবারের ভূমিকার বিবরণ দেওয়া হল:-
সুতরাং একটি শিশুর ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে পরিবারের তিনটি বিষয়ের উপর।
উল্লিখিত সম্পর্কগুলি যদি ইতিবাচক হয় তবে ঐ শিশুরা সৎ, ব্যক্তিত্বপূর্ণ এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে ওঠে এবং সমাজে সহজ জীবনযাপন করতে পারে।
শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা পূণ বিকাশও হয়ে থাকে
প্রশ্ন : সামাজিকীকরণ কী? সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলো বর্ণনা কর? উত্তর : ভূমিকা : সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। শিশুর জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় জীবন চলতে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে, নতুন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়। এ খাপ খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণ : সামাজিকীকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব শিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিসের মতে, ‘সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি পুরোপুরি সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব লাভে ব্যর্থ হয় এবং সমাজে সে একজন যোগ্য ও উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।অগবার্ন ও নিমকফ বলেন, ‘সামাজিকীকরণ ছাড়া সমাজে জীবনযাপন একেবারেই সম্ভব নয় এবং সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশার সামাজিক মূল্য বজায় রাখে।’সামাজিকীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানব শিশু ক্রমেই ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। অর্থাৎ যে সামাজিক প্রক্রিয়াকে মানুষের সামাজিক প্রগতির উন্মেষ, বিকাশ হয় তাকেই সামাজিকীকরণ বলা হয়। সামাজিকীকরণের মাধ্যম : নিম্নে সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলো আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : সামাজিকীকরণের সংজ্ঞা দাও। সামাজিকীকরণের মাধ্যম হিসেবে পরিবারের ভূমিকা বর্ণনা কর। উত্তর : সামাজিকীকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব শিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিসের মতে, ‘সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি পুরোপুরি সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব লাভে ব্যর্থ হয় এবং সমাজে সে একজন যোগ্য ও উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।’অগবার্ন ও নিমকফ বলেন, ‘সামাজিকীকরণ ছাড়া সমাজে জীবনযাপন একেবারেই সম্ভব নয় এবং সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি তার গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশায় সামাজিক মূল্য বজায় রাখে।’ সামাজিকীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যার দ্বারা মানব শিশু ক্রমেই ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। অর্থাৎ যে সামাজিক প্রক্রিয়াতে মানুষের সামাজিক প্রগতির উন্মেষ, বিকাশ হয় তাকেই সামাজিকীকরণ বলে। সামাজিকীকরণের মাধ্যম হিসেবে পরিবারের ভূমিকা সামাজিকীকরণের কতগুলো মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে পরিবারের ভূমিকাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে, শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথে বংশগতি মূল উপাদান জোগায়, সংস্কৃতি নকশা তৈরি করে এবং পরিবারে পিতা-মাতা কারিগর হিসেবে কাজ করেন। কারণ শিশুর সব দৈহিক, মানসিক, বস্তুগত ও অবস্তুগত যাবতীয় প্রয়োজন মেটায় পরিবার। পরিবারেই শিশু তার চিন্তা, আবেগ ও কর্মের অভ্যাস গঠন করে। মূলত শিশুর চরিত্রের ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হয় পরিবারেই। কীভাবে কথা বলতে হয়, নিজের আবেগ কীভাবে প্রকাশ করা হয় তা শিশু পরিবার থেকেই শিক্ষা লাভ করে। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ জীবনের জীবনযুদ্ধে যেন মুখোমুখি হতে পারে তার জন্য আগে থেকেই পরিবার তাকে শিক্ষা দেয়। পরিবার শিশুর অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করে থাকে। শিশুর চলাফেরা, কথাবার্তা, ভাষা শিক্ষা দেওয়া, আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দান করার দায়িত্ব একমাত্র পরিবারের। সমাজের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশি। সুতরাং শিশুর ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে তিনটি সম্পর্কের ওপর। যথা_
১. পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্ক
২. পিতা-মাতা ও শিশুর মধ্যে সম্পর্ক
৩. পরিবারের শিশুদের মধ্যে সম্পর্কের ওপর।
পিতা-মাতার মধ্যে সম্পর্ক মধুর হলেই সে পরিবারের শিশুরা সুন্দর পারিবারিক পরিবেশে নিজেদের ব্যক্তিত্ব গঠন করতে সক্ষম হয়।(বাকি অংশ পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে) অন্যদিকে পিতা-মাতার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, মারামারি বা পারিবারিক অশান্তি বিরাজ করলে সে পরিবারের শিশুদের মধ্যে মানসিক-দৈহিক সমস্যা দেখা দেবে এবং তারা নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়। পিতা-মাতা ও শিশুদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করলে পরবর্তী সময় ওই শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে ওঠে এবং সমাজে সহজ জীবনযাপন করতে পারবে। পরিবারের শিশুদের মধ্যে কেমন সম্পর্ক বিরাজ করবে তার ওপর ভিত্তি করে সে পরিবারের শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠিত হবে। সুতরাং শিশুর সামাজিকীকরণের সংস্থা হিসেবে পরিবারের পক্ষে যা করা সম্ভব অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে তা অচিন্তনীয়। ৩। সামাজিকীকরণের সংজ্ঞা দাও, সামাজিকীকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। উত্তর : সামাজিকীকরণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব শিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানী কিংসলে ডেভিসের মতে, ‘সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি পুরোপুরি সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব লাভে ব্যর্থ হয় এবং সমাজে সে একজন যোগ্য ও উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।’অগবার্ন ও নিমকফ বলেন, ‘সামাজিকীকরণ ছাড়া সমাজে জীবনযাপন একেবারেই সম্ভব নয় এবং সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যক্তি তার গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশায় সামাজিক মূল্য বজায় রাখে।’সামাজিকীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা মানব শিশু ক্রমেই ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়। অর্থাৎ যে সামাজিক প্রক্রিয়াতে মানুষের সামাজিক প্রগতির উন্মেষ বিকাশ হয় তাকেই সামাজিকীকরণ বলে। সামাজিকীকরণে গণমাধ্যমের ভূমিকা :
গণমাধ্যমসমূহ যেমন- সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র সামাজিকীকরণে গৌণ ভূমিকা পালন করে। কারণ সামাজিকীকরণের বাহন হিসেবে পরিবার, খেলার সাথী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানত মৌলিক ভূমিকা পালন করে। নিচে বিভিন্ন ধরনের গণমাধ্যমের ভূমিকা বর্ণনা করা হলো।সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন : সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, জার্মান প্রভৃতি গণমাধ্যমে পরিবেশিত তথ্যগুলো সমাজের মূল্যবোধ, প্রথা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে আলোচিত হয়। এছাড়া সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে এমন কিছু শিক্ষামূলক তথ্য প্রচার করা হয়, যার দ্বারা শিশু-কিশোর এমনকি যে কোনো ব্যক্তির সামাজিকীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বেতার : বেতার যন্ত্র আজকাল সহজলভ্য হওয়ায় সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিনোদনের মুখ্য মাধ্যম হলো বেতার। সে কারণে এ মাধ্যমটি নানা ধরনের বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে টেলিভিশন : দর্শন ও শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে একই সঙ্গে তথ্য সংগৃহীত হওয়ায় অন্যান্য গণমাধ্যমের তুলনায় টেলিভিশন পরিবেশিত তথ্য সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির অনুকূলে নানা ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে টেলিভিশন সামাজিকীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। চলচ্চিত্র : চলচ্চিত্র সামাজিকীকরণের বাহন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে যদি এদেশে শুধু বিনোদনধর্মী না হয়ে আদর্শ ও বাস্তবধর্মী শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এ ধরনের চলচ্চিত্র জনগণের ব্যক্তিত্বপূর্ণ মনোভাব গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
সকালের নাস্তা নাকি সারাদিনের পুষ্টির যোগান দেয়। অনেক শিশু সকালে খেতেও চায় না। এ বিড়ম্বনা…
খেলাধুলা, দুষ্টমি, হৈ-হুল্লোড় করে বাড়ি মাতিয়ে রাখবে- তাহলেই না বুঝবো বাসায় একটা বাচ্চা আছে। চুপচাপ,…