অনেক পরিবারেই অল্প বয়সের ব্যবধানে সন্তান থাকে। যাদের আমরা বলে থাকি পিঠাপিঠি ভাইবোন। এমন সন্তানদের বেড়ে ওঠা নিয়ে মা-বাবাকে কম ঝক্কি পোহাতে হয় না। সারাক্ষণ খুনসুটি, তারপর ঝগড়া কান্নাকাটি ইত্যাদি। এগুলো থেকে সৃষ্টি হতে পাওে বিভিন্ন পারিবারিক অশান্তি।
কেন এমন হয়
চাহিদা একই রকম হলে দ্ব›দ্ব হয়। ছোট সন্তানকে মা বেশি আদর করলে অন্য সন্তানের মধ্যে ঈর্ষা জাগে। ছোট সন্তান জন্মের পর মায়ের সঙ্গে বড় সন্তানের জায়গা পরিবর্তন হয়। সে একাকিত্ব বোধ করে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট সন্তান মনে করে বড় হয়েছে বলে সে বেশি পাচ্ছে। তাই এ ঈর্ষার সৃষ্টি হয়।
মা-বাবার পক্ষপাতিত্বেও কারণে সমবয়সীদের মধ্যে দ্ব›দ্ব হতে পারে। অনেক সময় ছোট বা কোনো এক সন্তানের প্রতি মা-বাবার আদর-যতœ বেশি থাকে। অন্য সন্তান তা বুঝতে পেওে তা নিয়ে ঈর্ষা করে।
কোনো কারণে ছোট বাচ্চাকে বেশি আদর করা হলে অন্য বাচ্চারা ঈর্ষা করে। কোনো সন্তানকে ভালো ফলাফলের জন্য বেশি আদর করা আর অন্যকে ধমক দেওয়া থেকেও এটা হতে পারে। কোনো প্রিয় জিনিস বা খেলনা অন্য বাচ্চা বা ভাইবোন ধরলেও ঈর্ষার সৃষ্টি হয়।
সমাধান
সমবয়সী এই ভাইবোনদের ঈর্ষাটা ক্ষতিকর নয়। বরং তাদের মধ্যেই ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব বেশি থাকে। তবে তা অতিরিক্ত হলেই বিপদ। ছোট সন্তানকে বেশি সময় দিতে গিয়ে বড়র কথা মা-বাবাকে ভুলে গেলে চলবে না। ভাইবোনদের মধ্যে শেয়ার করার মনোভাব থাকতে হবে। না থাকলে তৈরি করুন।
সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন না। তেমনি দেখতে অসুন্দর বা লেখাপড়ায় খারাপ হলে একজনের সঙ্গে অন্যজনের তুলনা করা যাবে না।
ছোটর ভালোমন্দের ব্যাপারে বড়র মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ছোটদের মধ্যে বড় ভাইবোনের প্রতি নির্ভরতা তৈরি করতে হবে। যেমন-বড় ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করো।
Ref:
দিলরুবা আফরোজ
অধ্যাপক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়